রাশিয়ার সঙ্গে কথিত আঁতাত প্রশ্নে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের ভূমিকা তদন্তের কাজ এখনো শেষ হয়নি, কিন্তু আলামত ভালো নয় আঁচ করতে পেরে সম্ভাব্য বিপদ থেকে বেরোনোর পথ খুঁজছে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস।

ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকা লিখেছে, ট্রাম্প তাঁর পরামর্শদাতাদের কাছে জানতে চেয়েছেন, তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে অপরাধীদের ক্ষমা করার কী আইনি ক্ষমতা তাঁর রয়েছে। শুধু তাঁর নির্বাচনী প্রচার শিবির বা নিজ পরিবারের সদস্য নয়, নিজেকেও এই ক্ষমার তালিকায় রেখেছেন ট্রাম্প। এ ব্যাপারে ট্রাম্পের আইনজীবীরা নিজেদের মধ্যে সলাপরামর্শ করছেন।

পাশাপাশি বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট ম্যুলারের ব্যাপারেও সন্দেহ ছড়ানোর চেষ্টা করছেন ট্রাম্পের সহযোগীরা। নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, ম্যুলারের নেতৃত্বাধীন তদন্ত দলের সদস্যদের অতীত ঘেঁটে সম্ভাব্য বিতর্কিত ও আপত্তিকর তথ্য খুঁজে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। মূল লক্ষ্য, এ কথা প্রমাণ করা যে ম্যুলার নিজে অথবা তাঁর তদন্ত দলের সদস্যরা নিরপেক্ষ নন। হোয়াইট হাউস বিশেষভাবে জানতে আগ্রহী এই দলের কারা অতীতে হিলারি ক্লিনটন বা অন্যান্য ডেমোক্রেটিক রাজনীতিকের সমর্থনে চাঁদা দিয়েছেন। বিষয়টি যে হোয়াইট হাউস তলিয়ে দেখছে, সে কথা দুই দিন আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন। যথাসময়ে এ ব্যাপারে সব তথ্য হাজির করা হবে বলে তিনি জানান।

বিশেষ কৌঁসুলির তদন্তের ব্যাপারে ট্রাম্প আগাগোড়াই তাঁর আপত্তির কথা বলে আসছেন। হিলারির ব্যাপারে ম্যুলার নমনীয় বা তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, এ কথা প্রমাণ করা গেলে ‘স্বার্থের দ্বন্দ্বের’ অজুহাতে তাঁকে অথবা তদন্ত দলের যেকোনো সদস্যকে বরখাস্ত করার আইনি বিধান রয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমস-এর সঙ্গে ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই বলে হুমকি দেন, রাশিয়া প্রশ্ন ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে তদন্ত করার কোনো আইনি অধিকার ম্যুলারের নেই। তাঁর (ট্রাম্প) বা তাঁর পরিবারের কারও ব্যবসা বা অর্থনৈতিক লেনদেন তদন্তের চেষ্টা হলে তা সীমা লঙ্ঘনের শামিল হবে।

ম্যুলার ইতিমধ্যে ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছেন। ব্লুমবার্গ নিউজ একাধিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহই এই মুহূর্তে ম্যুলারের প্রধান লক্ষ্য। এর মধ্যে রয়েছে রুশ নাগরিকদের কাছে ফ্ল্যাট বিক্রি ও ২০১৩ সালে ট্রাম্পের উদ্যোগে মস্কোয় ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতার বিষয়। ওয়াশিংটন পোস্ট মন্তব্য করেছে, ট্রাম্পের হুমকির পরও বিশেষ কৌঁসুলি ইতিমধ্যে তদন্তের কর্তৃত্বের বিষয়ে ‘সীমা লঙ্ঘন’ করেছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, মস্কোর সঙ্গে তাঁর কোনো লেনদেন নেই। তবে তাঁর পুত্র ট্রাম্প জুনিয়র একাধিকবার বলেছেন, রুশদের সঙ্গে তাঁর বড় ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে।

ম্যুলার ট্রাম্প বা তাঁর পরিবারের কারও বিরুদ্ধে অভিযোগনামা দাখিলের চেষ্টা করলে ট্রাম্প তাঁকে সত্যিই পদচ্যুত করবেন কি না, সে নিয়ে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে জল্পনাকল্পনা এখন তুঙ্গে। তাঁকে পদচ্যুত করার ব্যাপারে ট্রাম্প আগেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে চাইলেই ম্যুলারকে পদচ্যুত করা যাবে না, তাঁর সে আইনি এখতিয়ার নেই।

এএফপি জানায়, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শন স্পাইসার এবং ট্রাম্পের আইনজীবী দলের মুখপাত্র মার্ক কোরালো গতকাল শুক্রবার পদত্যাগ করেছেন। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, হোয়াইট হাউসের নতুন যোগাযোগ পরিচালক হিসেবে ওয়াল স্ট্রিটের একজন ব্যবসায়ী ও ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সমর্থক অ্যান্থনি স্কারামুচ্চির নাম ঘোষণার বিরোধিতা করে পদত্যাগ করেন স্পাইসার। আর মার্ক কোরিলো নিজেই এক ই-মেইল বার্তায় তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের কারণ সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি।

Donald_Trump_August_19,_2015_(cropped)