মার্কিন সেনাবাহিনী সেনাসদস্যদের জন্য প্রতিবছর ভায়াগ্রাসহ প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার (৮৪ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের যৌন উত্তেজক ওষুধ কিনতে হয়।

মার্কিন সেনাবাহিনীতে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা কোনোভাবেই কাজ করতে পারবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেছেন, সামরিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এ নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন। কারণ, তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যদের কারণে বাহিনীতে চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সামনে চলে এসেছে মার্কিন সেনাদের জন্য যৌন উত্তেজক কেনার খরচের বিষয়টি। অনেকেই বলছেন, সেনাবাহিনীতে তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যদের কারণে যদি চিকিৎসা ব্যয় বেড়েই যায়, তাহলে প্রতিবছর কেন প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার (৮৪ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের যৌন উত্তেজক ওষুধ কিনতে হয়। ট্রাম্পের ঘোষণার পর এ প্রশ্নটাই এখন মুখ্য হয়ে উঠেছে।

মিলিটারি টাইমস পত্রিকার প্রতিবেদন অনুসারে, প্রতিবছর সেনাবাহিনীর সদস্যদের জন্য যৌন উত্তেজক ওষুধ কিনতে পেন্টাগন থেকে প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ব্যয় করা হয়।

দেশটির প্রতিরক্ষা স্বাস্থ্য দপ্তর বলছে, মিলিটারি টাইমস পত্রিকা ২০১৪ সালের তথ্য নিয়ে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই বছর যৌন উত্তেজক ওষুধ কিনতে ৮ কোটি ৪২ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছিল।

মিলিটারি টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ সালে সেনাবাহিনীতে শুধু ভায়াগ্রা ও সিয়ালিসের মতো যৌন উত্তেজক ওষুধ কিনতে ২৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার (২৯৪ মিলিয়ন ডলার) ব্যয় করেছে, যা দিয়ে কয়েকটি যুদ্ধবিমান কেনা যেত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীতে দেওয়া চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে দেখা গেছে, প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার ব্যবস্থাপত্রে ওষুধ হিসেবে ভায়াগ্রার নাম লেখা। এগুলো কাদের জন্য? তবে এটাও সত্য যে কিছু কর্মকর্তাকে কর্মক্ষম রাখতে এই ওষুধের প্রয়োজন হয়। অনেকের যৌন অক্ষমতার সমস্যাও থাকতে পারে। তাই বলে এত সংখ্যক?

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর লাখো সদস্য অবসরে গেছেন। তাঁরাসহ ২০১২ সালে পেন্টাগনের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে প্রায় এক কোটি সদস্য চিকিৎসা নিয়েছেন। যাতে ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ২০০ কোটি ডলার (৫২ বিলিয়ন ডলার)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এটা ঠিক যে বয়স্ক মানুষের যৌন অক্ষমতা রোগ হতে পারে। তাই বলে বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের জন্য এত ব্যয় কতটা যৌক্তিক। মিলিটারি টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে সেনাসদস্যদের প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার ব্যবস্থাপত্রের মধ্যে কর্মরত সদস্যদের ব্যবস্থাপত্র ১০ শতাংশের কম।

বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরাক ও আফগানিস্তানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই সেনাসদস্যদের যৌন অক্ষমতার হার ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে। আর এতে দ্রুতগতিতে বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয় ও ভায়াগ্রা কেনার ব্যয়।

আর্মড ফোর্সেস হেলথ সার্ভিল্যান্স ব্রাঞ্চ (এএফএইচএসবি) এ নিয়ে ২০১৪ সালে একটি গবেষণা করেছে। ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মার্কিন সেনাবাহিনীর ১ লাখ ২৪৮ জন সক্রিয় সদস্য যৌন অক্ষমতা রোগের পরীক্ষা করিয়েছেন; যা অন্যান্য বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। যদিও এই ১ লাখ ২৪৮টি ঘটনার প্রায় অর্ধেক হচ্ছে ওই সদস্যদের মানসিক সমস্যা।

ডিপার্টমেন্ট অব ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্সের তথ্য অনুযায়ী, সেক্সুয়াল মেডিসিন জার্নালে ২০১৫ সালে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, সাধারণ নাগরিকদের তুলনায় পুরুষ সেনাসদস্যরা যৌন অক্ষমতাসহ নানা ধরনের যৌন রোগে সবচেয়ে বেশি ভোগেন।

আরেক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়া পুরুষ সদস্যদের প্রায় ৮৫ শতাংশই যৌন অক্ষমতাসহ নানা ধরনের যৌন রোগে ভোগেন। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে এসে যাঁরা এই রোগের পরীক্ষা করে চিকিৎসা নেননি, তাঁরা পরবর্তী সময়ে মানসিক রোগী হয়েছেন।

দেশটির বেসরকারি গবেষণা সংস্থা র‍্যান্ড করপোরেশনের ২০০৮ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাক ও আফগান যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসা প্রতি পাঁচজন মার্কিন সেনার মধ্যে একজন যৌন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া তাঁরা চরম বিষণ্নতায় ভুগছিলেন।

এএফএইচএসবির গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মার্কিন সেনাবাহিনীর ১ লাখ ২৪৮ জন সক্রিয় সদস্য যৌন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আর এই সময়েই ভায়াগ্রাসহ যৌন উত্তেজক ওষুধ কিনতে বাহিনীর সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে। সে সময় এ ধরনের রোগে আক্রান্ত বেশির ভাগ সদস্যকেই আর যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন সেনাবাহিনীতে যৌন অক্ষমতায় ভোগেন হাজার হাজার সদস্য। সেখানে দেশটিতে সাধারণ রোগ হিসেবে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে বছরে মাত্র ১৮ শতাংশ পুরুষ এই যৌন অক্ষমতায় ভোগেন। @BD Online Media

4af5feb75d5c01391ebe3ad8278fdd18-597b55a838215