নেইমারের প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে (পিএসজি) যাওয়ার গুঞ্জনটি ছড়িয়েছিল বার্সেলোনার প্রাক-মৌসুম সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে। বার্সার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে, এ ভাবনা থেকে হয়তো তখন মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন ব্রাজিলিয়ান এ স্ট্রাইকার। দলবদলের বিশ্ব রেকর্ড গড়ে শেষ পর্যন্ত পিএসজিকে নিজের নতুন ঠিকানা বানিয়ে নেইমার বললেন, বার্সাকে তিনি এতটুকু অসম্মান করেননি।

প্যারিসের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে বার্সেলোনা বিমানবন্দরে কাতালান ক্লাবটির সমর্থকেরা ছেঁকে ধরেছিলেন নেইমারকে। অনেকেই শেষবারের মতো বার্সার জার্সিতে তাঁর অটোগ্রাফ চেয়েছিলেন। বাবা ও এজেন্টকে নিয়ে ব্যক্তিগত জেট বিমানে ওঠার আগে নেইমার অবশ্য সব বার্সা-ভক্তের দাবি মেটাতে পারেননি! প্যারিসে বেলা তিনটায় পা রাখার পর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় পিএসজির সদর দপ্তর পার্ক দেস প্রিন্সেসে। সেখানে গণমাধ্যমের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় নেইমারকে। ফরাসি ক্লাবটির হয়ে প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই বার্সা-ভক্তদের ভুল ভাঙালেন নেইমার।
২৫ বছর বয়সী এ স্ট্রাইকারের পিএসজিতে যোগ দেওয়া নিয়ে এমনিতে ক্ষুব্ধ বার্সার সমর্থকেরা। নেইমারকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ ও ‘ভাড়াটে’ অভিহিত করে ন্যু ক্যাম্পের আশপাশে পোস্টার সেঁটেছিলেন ক্লাবের ভক্তরা। পিএসজির সংবাদ সম্মেলনে বার্সা সমর্থকদের ভুল ভাঙাতে চাইলেন নেইমার, ‘দুঃখ 8f3601f0446b26359b687aa3d84e0795-5984922743e23লাগছে যে সমর্থকেরা…এটা তারা ভাবতে পারে। তবে আমি কিছুতেই তাদের কিংবা বার্সাকে এতটুকু অসম্মান করিনি। সব খেলোয়াড়ের ক্লাবে থেকে যাওয়া কিংবা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। তারা কোথাও থেকে যেতে বাধ্য নয়। চলে যেতে চাইলে সঠিক সময়ে আমার যাওয়ার অধিকার রয়েছে।’
বার্সা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কতটা কঠিন ছিল, সেটিই বললেন নেইমার, ‘বার্সেলোনা শহর ও দলের সঙ্গে আমি মানিয়ে নিয়েছিলাম। সেখানে আমার বন্ধুবান্ধব আছে, তাই এটা সহজ ছিল না। ভীষণ দুশ্চিন্তা গেছে, জীবনে কী করব, তা নিয়ে ভেবেছি। সেখানে অনেক বন্ধু রেখে এসেছি। কিন্তু ফুটবলে সবকিছুই দ্রুত ঘটে যায়। বন্ধুত্বের জন্য বার্সা সতীর্থদের প্রতি ধন্যবাদ রইল। চার বছর সেখানে খুব সুখেই ছিলাম। কিন্তু ভাবলাম বিদায় নেওয়ার এটাই সময়।’
বার্সা ছেড়ে কেন পিএসজি বেছে নিয়েছেন নেইমার, নানা কথাই শোনা গেছে গত কিছুদিনে। কিন্তু তাঁর নিজের যুক্তি কী, সেটাই আজ বললেন নেইমার, ‘প্যারিসের মতো বড় ক্লাবে আসতে পেরে ভীষণ সন্তুষ্ট। শহরটাও দারুণ। এ ক্লাবের লক্ষ্য ঠিক আমার মতোই। আমি আরও বড় চ্যালেঞ্জ চাই। এখানে নিজের সবটুকু নিংড়ে দিয়ে দলকে শিরোপা জয়ে সাহায্য করতে চাই।’
পিএসজিতে বছরে ৩ কোটি ইউরো পারিশ্রমিক পাবেন নেইমার। অনেকেরই ধারণা, অর্থের লোভে পড়ে তিনি যোগ দিয়েছেন পিএসজিতে। কিন্তু নেইমার জানালেন অর্থ নয়, তিনি হৃদয়ের দাবি শুনেছেন, ‘কখনো অর্থ আমাকে পরিচালিত করেনি। হৃদয় যা বলেছে, তা-ই শুনেছি। খারাপ লাগছে যে মানুষ এটা ভাবছে। পিএসজিকে ধন্যবাদ কারণ তারা আমার সম্ভাবনায় আস্থা রেখেছে।’ সূত্র: এএফপি।