20776695_1981474615404046_4039231971982487931_o
সর্তকতা/করনীয়: ৫/১৪ জনের টিম হলে ভালো হয়। খরচের দিক থেকে ১৪ জন যাওয়াই বেস্ট। কারন ১৪ জনের ঘুরাঘুরি তে লেগুনা দিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন। আর ৫ জন হলে সিএনজি। সবসময় খাবার পানি রাখবেন সাথে।
ট্যুর প্ল্যান:

ডে ১: পান্থুমাই, লক্ষনছড়া, বিছানাকান্দি~

ঢাকা থেকে ট্রেন/বাসে করে যাবেন সিলেট। ট্রেনে গেলে ২ দিন আগেই টিকিট কাটতে হবে। না হলে সিট পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, নেই বললেই চলে। ট্রেনের টিকিট ৩২০ করে। বাসেও প্রায় এরকমই।
সিলেট পৌছে হোটেলে ব্যাগ রেখে একেবারে বেরিয়ে পড়ুন। মাজারের সামনেই অনেকগুলো হোটেল আছে। আপনি যেকোন একটা হোটেলে উঠতে পারেন!!
তারপর সিলেটের বিখ্যাত ৫ ভাই হোটেলে সকালের নাস্তা সেরে লেগুনাতে করে বেরিয়ে পড়ুন হাদারপাড়ের উদ্দেশ্যে। ঢাকা থেকেই লেগুনা ভাড়া করে যাওয়া বেটার। তাহলে সকালে ট্রেন স্টেশন থেকে হোটেল যাওয়া নিয়ে আর টেনশন করতে হবে না। ভিডিও ডিস্ক্রিপশনে লেগুনারও একটা নাম্বার দেওয়া আছে। আমরা সিলেট টু হাদারপাড়, সিলেট টু জাফলং দুই দিনে আসা যাওয়া ৫২০০ টাকা দিয়ে লেগুনা ভাড়া করেছিলাম। আর ২ দিনে আসা যাওয়া ৩২০০ টাকা দিয়ে সিএনজি ভাড়া করেছিলাম।
হাদারপাড় থেকে আপনাকে বোটে করে ঘুরতে হবে। হাদারপাড় থেকে একটা বোট ভাড়া করলেই আপনাকে একে একে পান্থুমাই, লক্ষনছড়া এবং বিছানাকান্দি ঘুরিয়ে দেখাবে। ভিডিও ডিস্ক্রিপশনে একটা বোটের নাম্বারও দেওয়া আছে। আমরা বোট ৩০০০ টাকা দিয়ে ভাড়া করেছিলাম।
ঘুরাঘুরি শেষ হতে আপনার প্রায় সন্ধ্যা হয়ে যাবে। সন্ধ্যার মধ্যেই বিছানাকান্দি থেকেই রওয়ানা করুন। তারপর আবার হাদারপাড় এসে সেখান থেকে লেগুনাতে করেই সিলেট ব্যাক করুন। রাতেও চাইলে পাঁচ ভাই হোটেলেই খেতে পারেন। অথবা পানসি তেও খেতে পারেন।
ডে ১ ফুট নোট: সিলেট টু হাদারপাড় রাস্তা অনেক খারাপ। বলার বাইরেই খারাপ। একটু কষ্ট করে যেতে হবে। আর সকালে হোটেলে বা খাওয়া দাওয়াতে লেট করবেন না। দুপুরের খাবার হাদারপাড় অথবা বিছানাকান্দিতেই করতে পারবেন। দুপুরের খাবার একটু দামাদামি করে নিবেন।

ডে ২: রাতারগুল, সংগ্রামপুঞ্জি, জাফলং~

সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে হোটেল থেকে একেবারে বেরিয়ে পড়ুন। আজও চাইলে আগের লেগুনা/সিএনজিটিই ভাড়া করতে পারেন। সিএনজির নাম্বার ডে ২ ভিডিও ডিস্ক্রিপশনে আছে। আমরা ১ম ও ২য় দিন মিলে ৫২০০ টাকা দিয়ে লেগুনা ও ৩২০০ টাকা দিয়ে সিএনজি ভাড়া করেছিলাম।
লেগুনা আপনাকে নিয়ে যাবে রাতারগুল। সেখান থেকে বোট ভাড়া করে ঘুরে আসুন রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট। বোট সাধারণত আকাশ পাতাল দাম চাইবে। আমরা ৬০০ টাকা করে বোট ভাড়া করেছিলাম। কিন্তু আমাদের সামনেই অনেকে ১২০০ টাকা করেও বোট ভাড়া করেছে। ডে ২ ভিডিও ডিস্ক্রিপশনে নাম্বার দেয়া আছে বোটের। এক বোটে ৬-৭ জন উঠতে পারবেন।
রাতারগুল ঘুরাঘুরি শেষ করে লেগুনা নিয়েই বেরিয়ে পড়ুন জাফলং এর উদ্দেশ্যে। জাফলং পৌছে দুপুরের খাবার সেরে নিন কোন একটা হোটেলে। এখানেও আপনাকে খাবারের ক্ষেত্রে একটু দামাদামি করে নিতে হবে। দুপুরের খাবার শেষ করে নৌকা করে জাফলং এর অপর পাড়ে যেতে পারেন। অপর পাড়ে যেতে পার পারসন ১০ টাকা করে নিবে। তারপর সেখান থেকে ১০ মিনিট হেঁটে চলে যান সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা। মজার ব্যাপার হলো এই ঝর্ণাটি একদম বাংলাদেশ ইন্ডিয়া বর্ডারের উপরেই পড়েছে। গুগল ম্যাপে দেখলে ইন্ডিয়াই দেখাবে।
সংগ্রামপুঞ্জি ঘুরাঘুরি শেষ করে জাফলং এর পানিতে এসে লাফালাফি, নাচানাচি যা ইচ্ছা করতে পারেন :p সন্ধ্যার মধ্যেই আবার লেগুনার কাছে ব্যাক করুন এবং সিলেট এসে রাতের খাবার দাবার সেরে নিন।
ডে ২ ফুট নোট: একটু সময় বাঁচিয়ে ঘুরাঘুরি করলে আপনি চাইলে লালাখালেও ঘুরতে পারেন। আমাদের রাতারগুলে একটু লেট হয়েছিল তাই আমরা লালাখাল ঘুরতে পারি নি। সিলেট শহরে খাবার-দাবার নিয়ে একদমই টেনশন নিবেন না। পাঁচ ভাইতে পেট পুরে খেয়েও ১০০র কাছাকাছি বিল আসবে :p পরদিন সকালে একেবারে হোটেলে চেক আউট করে বের হবেন।

ডে ৩+৪: সুনামগঞ্জ, নিলাদ্রী, বারিক টিলা, যাদুকাটা নদী, টাংগুয়ার হাওর

ডে ৩ এবং ৪ আমি একসাথে লিখেছি কেন সেটা বাকিটুকু পড়লেই বুঝতে পারবেন। তবে ট্যুরের এই পার্ট টুকু আপনারা চাইলে সোলো ও করতে পারেন!! মানে আর কিছু না ঘুরে শুধু সুনামগঞ্জ। সেক্ষেত্রে আপনাকে ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ এর বাসে যেতে হবে।
আমরা আমাদের আগের ট্যুরের ধারায় ফিরে আসি। সকালে হোটেলে চেক আউট করে সকালের নাস্তা সেরে সিএনজি করে চলে যান কুমারগাঁও স্টেশন এ। সিলেট থেকে কুমারগাঁও স্টেশন যেতে ফুল সিএনজি ভাড়া নিবে ১০০ টাকা।
সেখান থেকে বাসে করে যাবেন সুনামগঞ্জ। রিজার্ভ বাসে জনপ্রতি নিবে ১০০ টাকার মত। সুনামগঞ্জ থেকে সিএনজিতে করে চলে যান তাহিরপুর। সুনামগঞ্জ থেকে তাহিরপুরের ভাড়া জনপ্রতি ১০০ হলেও কথা বলে ফুল সিএনজি ৪০০ টাকায় রিজার্ভ করতে পারবেন।
সুনামগঞ্জ থাকতেই পরেরদিন ঢাকার রিটার্ন টিকেট কেটে নিবেন। তারপর তাহিরপুরের দিকে রওয়ানা হবেন।
তাহিরপুর এ গিয়ে চাইলে নৌকা ভাড়া করে নৌকাতেই রাতে থাকতে পারেন। অথবা কোন একটা রিসোর্ট এ ও থাকতে পারেন!! পরদিন সকালে নৌকা নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। আগে যাবেন টেকেরঘাট। সেখান থেকে ৫ মিনিট হাঁটলেই নিলাদ্রী। নিলাদ্রীতে ঘুরাঘুরি শেষ করে বাইকে করে চলে যান বারিকটিলা+ স্থানীয় ছোট একটা ঝর্ণাতে। বাইক ভাড়া নিবে ১৫০-২০০ এর মধ্যে। বাইকে ২ জন উঠতে পারবেন। তবে ভাড়া ৪০০/৫০০ চাইলেও ২০০ এর বেশিতে রাজি হবেন না।
তারপর আবার বোটে ঊঠে চলে যান টাঙ্গুয়ার হাওর। সেখানে কিছুক্ষন থেকে তাহিরপুরে ব্যাক করুন। তাহিরপুর থেকে তারপর সুনামগঞ্জ এ চলে যান।
ফুট নোট: তাহিরপুর থেকে বোটে উঠার আগে বোটে দুপুরের খাবার নিয়ে নিন। তাহলে ঘুরাঘুরি নিশ্চিন্তে করতে পারবেন + বোটেই লাঞ্চ সেরে নিতে পারবেন।
20776695_1981474615404046_4039231971982487931_o