অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের ১৪ জনে জায়গা হয়নি মুমিনুল হকের। বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীনের দাবি, সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় নিয়ে টেস্ট স্কোয়াড গঠন করা হয়েছে। আর সাম্প্রতিক ফর্মেই একাদশ তো বটেই, স্কোয়াডেও জায়গা মেলেনি ব্যাটিং গড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা ব্যাটসম্যানের।

টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতি হিসেবে কিছুদিন আগে চট্টগ্রামে তিন দিনের ওয়ার্মআপ ম্যাচ খেলেছেন মুশফিক-তামিমরা। এ ম্যাচে তামিমের দলের হয়ে প্রথম ইনিংসে মুমিনুল হক করেছেন ৭৩ রান, যা ছিল ওই প্রস্তুতি ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে সর্বোচ্চ। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার, বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ গড়ধারীকে তবু অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য বিবেচনা করা হয়নি! তাহলে খেলোয়াড়দের সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনা করা হলো কীভাবে?

একই প্রস্তুতি ম্যাচে মুশফিকের দলের হয়ে প্রথম ইনিংসে ১ রান করেছিলেন সৌম্য সরকার। তাঁর থেকে ৯ রান বেশি করেছেন তামিমের দলে খেলা সাব্বির। কিন্তু এ দুই ক্রিকেটারকে রাখা হয়েছে স্কোয়াডে। অন্যদিকে, এই প্রথমবারের মতো ‘অফ ফর্মে’র অজুহাতে টেস্ট স্কোয়াড থেকে বাদ পড়লেন মুমিনুল।

গত দেড় বছরের পারফরম্যান্সে অবশ্য মুমিনুলের বাদ পড়ার ব্যাখ্যা আছে। এ সময়ে সৌম্য, সাব্বির ও মুমিনুলের পারফরম্যান্সের তুলনা টেনে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছর চার টেস্ট খেলেছেন সৌম্য। ৪ ফিফটিসহ ৪৬.৭৫ গড়ে করেছেন ৩৭৪ রান। সর্বোচ্চ ৮৬ রান করেছিলেন ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। তবে ৭ টেস্টের ক্যারিয়ারে কোনো সেঞ্চুরি নেই সৌম্যর।

সৌম্যর (৭ টেস্ট) তুলনায় এক টেস্ট কম খেলেছেন সাব্বির। ৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে ৩৩ গড়ে ৩৩০ রান করেছেন তিনি। তিন ফিফটি থাকলেও কোনো ইনিংসকেই তিন অঙ্ক পর্যন্ত টেনে নিতে পারেননি সাব্বির। তবে কলম্বো টেস্টে তাঁর দুটো চল্লিশোর্ধ্ব ইনিংসের গুরুত্ব ফিফটি-সেঞ্চুরির চেয়েও বেশি ছিল।

মুমিনুল এ সময়ে পাঁচ টেস্টে ২৩.২ গড়ে ২৩২ রান করেছেন। ফিফটি মাত্র দুটি। অর্থাৎ, সর্বশেষ পাঁচ টেস্ট বিবেচনায় মুমিনুলের চেয়ে সাব্বির-সৌম্যর রান গড় শ্রেয়তর। তারপরও একটা খটকা থেকে যায়, সেটা হলো অভিজ্ঞতা।

অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে মুমিনুলের ২২ টেস্ট ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই সৌম্য-সাব্বিরের মোট ১৩ টেস্ট অভিজ্ঞতার চেয়ে মূল্যবান? তার চেয়েও বড় প্রশ্ন উঠতে পারে বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্য নিয়ে। দুর্দান্ত স্টাইলিশ হলেও সাদা পোশাকে কিছুটা ধৈর্যের খামতি রয়েছে সৌম্য-সাব্বিরের। এদিক বিচারে সাদা পোশাকে মুমিনুল যেন ধ্যানমগ্ন ঋষি—যে কারণে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে চারটি সেঞ্চুরি, রয়েছে ১১টি হাফ সেঞ্চুরিও। আর তাই আলোচিত এ টেস্ট সিরিজের আগে সবাই ভেবেছিলেন, মুমিনুলকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া কঠিন হবে টিম ম্যানেজমেন্ট তথা হেড কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহের জন্য।

সে ভাবনায় গুড়েবালি, অভিজ্ঞতা নয়, টিম ম্যানেজমেন্টের মুখে আবারও তারুণ্যের জয়ধ্বনি!4dd3c45ce3b9795a16bed1d303b6c9fc-59980bb93c1c6