গর্ভাবস্থায় আলট্রাসনোগ্রামের কথা ভাবতেই চোখের সামনে ভেসে উঠে কাঙ্খিত সেই অনাগত শিশুটির অবয়ব। অনেকেই মনের খোরাক বা অতিরিক্ত টেনশন থেকে ঘন ঘন আলট্রাসনোগ্রাম করে থাকেন। কেউবা আবার ঘরের মুরুব্বী বা নিজেদের অজ্ঞতা অথবা ভয়ের জন্য একেবারেই করেন না।

আসলেই কতবার আলট্রাসনোগ্রাম করা যায় বা আদৌ শিশুর জন্য তা ক্ষতির কারন কিনা তা নিয়ে এখনও রয়েছে ভ্রান্ত ধারণা, এমনকি শিক্ষিত পরিবারেরও রয়েছে দ্বিধা।

প্রায় ৫০ বছর ধরে প্রচলিত এই পরীক্ষাটি এখন পর্যন্ত অত্যন্ত জনপ্রিয়, নির্ভরযোগ্য ও নির্ভুল তথ্য প্রদর্শন করে।

আলট্রাসনোগ্রাম কি ?

অতি উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ তরঙ্গ এর মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরের ছবি নেয়ার পদ্ধতিই হল আলট্রাসনোগ্রাম ।

কত বার এবং কখন করা হয়?

সাধারণত ২ থেকে ৪ বার করা হয়ে থাকে।

কখন ও কেন করা হয়?

(৪ থেকে ৬ সপ্তাহ) –

  • গর্ভধারণ নিশ্চিত কিনা তা বুঝার জন্য।

( ১৬-২০ সপ্তাহ) –

  • ভ্রূণের বয়স নির্ধারণ করে সম্ভাব্য তারিখ নির্ণয় করা এবং
  • গর্ভস্থ শিশুর বিকৃতি আছে কিনা তা নির্ণয় করার জন্য।

(২৪ সপ্তাহ) –

  • লিঙ্গ নির্ধারণ,
  • গর্ভাশয়ে পানির পরিমাণ ঠিক আছে কিনা,
  • গর্ভ ফুলের অবস্থান নির্ণয়,
  • বাচ্চার নড়াচড়া এবং অবস্থান নির্ণয় করার জন্য।

(৩২ সপ্তাহ) –

  • গর্ভস্থ শিশুর ওজন, বৃদ্ধির হার, বাহ্যিক অবস্থা দেখার জন্য।

আলট্রাসনোগ্রাম কি ক্ষতিকর ?

যেহেতু এই প্রক্রিয়ায় কোন তেজস্ক্রিয় রশ্মি বিকিরন হয়না, তাই জরুরী এই পরীক্ষাটি আসলে শিশুর কোন ক্ষতি করেনা।

কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত, বিশেষ করে ৪ডি আলট্রাসনোগ্রাম (বাচ্চার মুখের অবয়ব দেখার জন্য, যা করা হয়) সেটা না করাই ভালো। কারন অতিরিক্ত সময় ধরে ৪ডি শব্দ তরঙ্গের বীম ও উৎপন্ন তাপ সংবেদনশীল টিস্যু গুলোর ক্ষতি সাধন করতে পারে।

৪ডি আলট্রাসনোগ্রাম করা হয় দম্পতির নিজস্ব ফ্যান্টাসির প্রয়োজন মেটাতে, অনেক ডাক্তার দম্পতিও এর বাইরে নন। ৪ ডি এর মাধ্যমে বাচ্চাকে না দেখলে যেন তাদের মন শান্তি পায়না। অথচ মুখের যে অবয়ব দেখা যায় তা শুধুই সফটওয়্যার দিয়ে তৈরি কাল্পনিক ভার্সন। আমাদের নিজেদের স্বার্থে কাল্পনিক মুখাবয়ব দেখার এই অদ্ভুত মন মানসিকতা বাদ দেয়াই উত্তম।

লেখাটি লিখেছেন –

ডাঃ শারমিন ইসলাম (পি.টি)
ফিজিওথেরাপিস্ট  (বি. এস. পি. টি. মেডিক্যাল ফ্যাকাল্টি, ডি ইউ)

story-first-trimester-screening-860x484_tcm137-190536