আপনার শিশুকে বুদ্ধিমান বানাতে চান? তার কল্পনাশক্তি বাড়াতে চান? তাহলে হাত থেকে হরলিক্স/কমপ্লেনের ডিব্বাটা নামান, একটা বুদ্ধি দেই শুনেন।
.
আমি সবসময়েই বলি, কল্পনাশক্তি বাড়ানোর জন্য গল্পের বইয়ের বিকল্প নেই, আর শিশুদের বই দেয়ার সময় শেষের পাতা ছিঁড়ে দিতে পারেন।
.
এরকম অবস্থায় শিশুটি ঐ গল্প নিজে থেকে শেষ করার চেষ্টা করবে। কিন্তু মনমতো না হওয়ায় বার বার চেষ্টা করতে থাকবে। 
.
বই পড়ার উদ্দেশ্য কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটানো, তথ্য গেলানো নয় বা শুধুই বিনোদন নয়।
.
মহান গ্যেটে যখন শিশু ছিলেন তখন তার মা তাঁকে আরব্য রজনী থেকে গল্প পড়ে শুনাতেন। এই গল্পগুলি ক্লিফ হ্যাংগারে গিয়ে শেষ হয় প্রতি পর্বে। গ্যেটের মা প্রতিটা গল্প বলতেন, আর গ্যেটে বাকীটা শুনতে চাইতেন, পরের পর্বে রাজকন্যা দৈত্যটাকে মারতে পারবে কি না, রাজপুত্রকে বিয়ে করতে পারবে কি না। কিন্তু গ্যেটের মা ছেলেকে তা বলতেন না। পরদিনের জন্য রেখে দিতেন। শিশু গ্যেটে নিজে নিজে তার মত করে গল্পে কী হবে কল্পনা করে নিতেন ও তার দাদীকে সেটা শুনাতেন দিনের বেলায়।
.
সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, শিশুদের কল্পনাশক্তি ও ব্রেইনের সক্ষমতা এভাবেই বাড়ে, বাবা মা’রা যখন তাদের সাথে কথা বলেন, গল্প পড়ে শোনান।
.
সুতরাং যারা নিজেদের শিশুকে খালি হরলিক্স কমপ্ল্যান খাইয়ে বুদ্ধিমান বানানোর চিন্তা করেন, তারা ভুল পথে আছেন আসলে। পুষ্টির সাথে সাথে তার সাথে বেশী কথা বলা, গল্পের বই পড়ে শোনানো এগুলো করতে হবে। আর বেশী বেশী ছবিওয়ালা গল্পের বই, ইত্যাদি সংগ্রহ করে দিতে হবে।
.
আর শিশুদের হাত থেকে মোবাইল/ট্যাব সরিয়ে ফেলুন সময় থাকতেই। এর ক্ষতিকর দিক অনেক, কিন্তু এ নিয়ে নাহয় আরেকদিন বলবো।

Wengenn-Magic-Carousel-in-the-Sky1000

12439091_842577305870192_3277621181040430147_n
Engr. Atiqur Rahman