বেসরকারি একটি হাসপাতালে বিছানায় রোগীর বদলে রাখা হয়েছে বেশ কয়েকটি ঝুড়ি। সেখানে রাখা হয়েছে আলু, বেগুন, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, কলা, শিম, কচু, লেবু, শাকসবজি এবং কেক ও বিস্কুট। পাশেই চেয়ারে বসে সেগুলো বিক্রি করছেন হাসপাতালের নার্সরা। বিছানার সামনে টাঙানো আছে শাকসবজির মূল্যতালিকা।

বিক্রির জন্য শাকসবজি রাখা হাসপাতালের ওই বিছানার সামনে আরও একটি ব্যানার টাঙানো। সেখানে লেখা ‘আদর্শ নিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা করার চেয়ে শাকসবজি বিক্রি করা আমাদের জন্য লাভজনক ও সম্মানের। কারণ এতে জরিমানার সম্ভাবনা কম, আণবিক শক্তি কমিশন থেকে কোনো অনুমোদন নিতে হয় না।’ হাসপাতালটির প্যাডে প্রিন্ট করে একই লেখা-সংবলিত লিফলেটও টাঙানো আছে।

আজ বুধবার কুষ্টিয়া শহরের পেয়ারাতলা এলাকায় কুষ্টিয়া অর্থোপেডিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের চিত্র এটি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) নির্বাহী হাকিম ও আইন কর্মকর্তা গাউছুল আজম ওই হাসপাতালে অভিযান চালান। পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে হাসপাতালের পরিচালক রামানন্দ নাথকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর প্রতিবাদে আজ হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসার পরিবর্তে শাকসবজি বিক্রির কর্মসূচি পালন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বিক্রির জন্য রাখা শাকসবজির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মাসুদ রানা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জরিমানা করার প্রতিবাদে হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এর প্রতিবাদেই আলু, পেঁয়াজসহ তরিতরকারি বিক্রি করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ১৬ জুন আবদুল কাদের নামের এক ব্যক্তি কুষ্টিয়া অর্থোপেডিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিবন্ধন করেন। একই বছর ৩০ জুন এ প্রতিষ্ঠান দুটির নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৬-২০১৭ ও ২০১৭-২০১৮ সাল—এই দুই বছর প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নিবন্ধন নবায়নের কোনো আবেদন করা হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন রওশন আরা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন নবায়নের জন্য কর্তৃপক্ষ গত দুই বছর আবেদন করেনি। তবে প্রতিষ্ঠানটি অবৈধ নয়। নবায়ন করে প্রতিষ্ঠান চালানো উচিত।’

র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। এতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ২০০৯-এর ৫২ ও ৫৩ ধারায় কুষ্টিয়া অর্থোপেডিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালসহ সাতটি প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে ২১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।

BD Online Media lkj