সৌদি আরবে আটক প্রিন্সদের ওপর নির্যাতন চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ভাড়া করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত সামরিক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘ব্ল্যাকওয়াটার’ থেকে ভাড়া করে আনা হয়েছে ওই নির্যাতনকারীদের।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল সৌদি আরবের রাজপরিবারের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে।

মেইলের খবরে বলা হয়েছে, ব্ল্যাকওয়াটারের নাম পরিবর্তন করে ‘একাডেমি’ রেখেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সৌদি যুবরাজদের আটকের পর তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে নেতৃত্ব দিয়েছে ‘ব্ল্যাকওয়াটার’ থেকে ভাড়া করা লোকজন।

নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে ও বিরুদ্ধাচরণ দুর্বল করতে এ মাসের শুরুতে সৌদি রাজপরিবারে গ্রেপ্তার অভিযান চালান বর্তমান যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। দুর্নীতির অভিযোগে প্রিন্স আলওয়ালিদ বিন তালালসহ ১১ জন যুবরাজ ও চারজন মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। বরখাস্ত করা হয় নৌবাহিনীর প্রধানকে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন সাবেক মন্ত্রীও গ্রেপ্তার হন। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিলাসবহুল রিজ-কার্লটন হোটেলে রাখা হয় তাঁদের। এই হোটেলে থাকা বন্দীদের কম্বল মুড়িয়ে মেঝেতে ঘুমানোর ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

শাসনব্যবস্থায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্যই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। এর পেছনে দুর্নীতি দমনের লক্ষ্যকে ছাপিয়ে আরও কিছু রয়েছে। বিশেষ করে যুবরাজের সম্ভাব্য বিরোধীদের সরিয়ে দিতেই এ পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে।

আটক প্রিন্সদের কাছ থেকে যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান এরই মধ্যে ১৯ হাজার ৪০০ কোটি ডলার জব্দ করেছেন।

প্রিন্সদের আটকের পরপরই মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘ব্ল্যাকওয়াটার’-এর লোকজনকে ভাড়া করে সৌদি আরব। ৩২ বছর বয়সী মোহাম্মাদ বিন সালমান এখন সৌদি আরবের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি।

সৌদি সূত্রটি জানিয়েছে, ওই সব ভাড়া করা লোকজনই আটক ব্যক্তিদের মারধর ও নির্যাতন চালাচ্ছে।

BD Online Media hghf