অজয় দেবগনের কপালটাই খারাপ। প্রতিটি ছবিকে সফল করার জন্য নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করেন এই নায়ক। বলিউডে তাঁর বড় বাজেটের ছবিগুলোর জন্য নেন ব্যাপক প্রস্তুতি। ছবির প্রচারণার জন্যও অনেক পরিশ্রম করতে হয়। মোট কথা, যেভাবেই হোক, নিজের ছবিকে সফল করার জন্য এই নায়ক চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখেন না। তিনি নিজে ছবির প্রযোজনাও করেন। কিন্তু বছর কয়েক ধরে অজয়ের জীবনে একটি আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘বক্স অফিস সংঘর্ষ’। দেখা যাচ্ছে, যেদিনই অজয় নিজের বড় বাজেটের কোনো ছবির মুক্তি দিতে চান, সেদিন বলিউডের অন্য কোনো বড় বাজেটের ছবি মুক্তি পাচ্ছে। আর এই সংঘর্ষে বারবার অজয়ের ছবিই মার খায়। এবার তাই অজয় আর কোনো ঝুঁকির মধ্যে যাচ্ছেন না। পকেট ভারী আছে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভারতজুড়ে ১০০টি প্রেক্ষাগৃহ কিনে ফেলবেন।

অজয় দেবগন এখন উত্তর প্রদেশে ছয়টি প্রেক্ষাগৃহের মালিক। ‘গোলমাল’ ছবির এই তারকার একজন মুখপাত্র জানান, অজয় এখন ভারতজুড়ে আরও ১০০টি প্রেক্ষাগৃহ কেনার পরিকল্পনা করছেন। সেগুলোকে তিনি আধুনিক মাল্টিপ্লেক্সে রূপান্তরিত করবেন। অন্য প্রযোজকদের সঙ্গে এই বক্স অফিস সংঘর্ষের কারণে রাতের ঘুমই মাঝেমধ্যে হারাম হয়ে যায় অজয়ের।

করণ জোহরের সঙ্গে ‘নোংরা’ যুদ্ধে তো তাঁদের সম্পর্কই ভেঙে গেল। অজয়ের স্ত্রী আরেক বলিউড তারকা কাজলের সঙ্গে করণের ২৫ বছরের বন্ধুত্ব রূপ নেয় চরম বৈরিতায়। ২০১৬ সালে করণ জোহরের ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ ও অজয়ের ‘শিবায়’ মুক্তি পায়। করণকে তাঁর ছবি মুক্তির তারিখ পেছানোর জন্য অজয় অনেক অনুরোধ করেন। করণও ব্যবসায়ী, নিজের ছবির লাভের কথা চিন্তা করে ছবির মুক্তির তারিখ পরিবর্তন করেননি। ফলাফল, ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ ছবির ঝুলিতে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। সেই তুলনায় ‘শিবায়’ তেমন আয় করতে পারেনি।

এর আগে ২০১২ সালে যশ চোপড়ার ‘যব তক হ্যাঁয় জান’ আর অজয়ের ‘সান অব সরদার’ একই দিনে মুক্তি পায়। শাহরুখ খান, আনুশকা শর্মা ও ক্যাটরিনা কাইফ অভিনীত ‘যব তক হ্যাঁয় জান’ ছবি মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই আয় করে ৮০ কোটি রুপি। আর ‘সান অব সরদার’ তত দিনে টেনেটুনে ৬৫ কোটি রুপি ঝুলিতে তুলতে সক্ষম হয়। এ বছর অজয়ের ‘বাদশাহো’র সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধতে যাচ্ছিল দুটি ছবির। একটি শাহরুখ খানের ‘রইস’ আরেকটি হৃতিক রোশনের ‘কাবিল’। অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অজয় এবার তাঁর মুক্তির তারিখ পিছিয়ে দেন, কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। ব্যবসায়িক সাফল্যের দিক থেকে ‘বাদশাহো’ শাহরুখ, হৃতিকের ছবির ধারে কাছেও যেতে পারেনি। আগামী দীপাবলিতেও ‘টোটাল ধামাল’ ছবির সঙ্গে আমির খান ও অমিতাভ বচ্চনের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘থাগস অব হিন্দোস্তান’-এর ঠোকাঠুকি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

পরিস্থিতি অজয়ের পক্ষে নেই। তাই বুদ্ধি করে নিজের গাঁটের টাকা খরচ করে ১০০টি প্রেক্ষাগৃহ কিনে নিতে চাইছেন অজয়। নিজের হলে ইচ্ছামতো নিজের সিনেমা চালাবেন। তা না হলে সাফল্যের মুখ দেখার আপাতত আর কোনো উপায় দেখছেন না তিনি। ইন্ডিয়া টুডে।

BD Online Mediaojoy