বাংলাদেশে হরতাল মানেই বিরোধী দলগুলোর বিক্ষোভ মিছিল আর পুলিশের লাঠিপেটা, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি। তবে আজ বৃহস্পতিবার সিপিবি, বাসদ, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চাসহ কয়েকটি বাম দলের ডাকা হরতালে সেই দৃশ্য চোখে পড়েনি। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে ডাকা এই হরতালে পুলিশ বাধা দিয়েছে নতুন এক উপায়ে। আর সেটি হলো শব্দ ব্যবহার করে।

আজ সকালে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় হরতালের সমর্থনে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতা–কর্মীরা অবস্থান নিতে শুরু করেন। তবে তাঁরা জড়ো হওয়ার আগে একটি যন্ত্র থেকে বিকট শব্দ ছড়িয়ে পড়ে পুরো শাহবাগ এলাকায়। পুলিশ হরতালকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য হাইপারস্পাইক নামক একধরনের সাউন্ড স্টিমুলেটর ব্যবহার করে। পুলিশের দুটি সাঁজোয়া যানে বসানো স্পিকার থেকে বিকট শব্দ ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অসহনীয় শব্দে এ সময় বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে সরে পড়েন। পুলিশের দমনপীড়নের নতুন এই হাতিয়ার নিয়ে এলাকায় বেশ আলোচনা শুরু হয়।

এ ঘটনাকে ‘শব্দ–সন্ত্রাস’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতা ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জিলানী শুভ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, যখন এই বিকট শব্দ করা হচ্ছিল, মনে হচ্ছিল কানের পর্দা ফেটে যাবে। অনেকটা বধির হয়ে যাওয়ার অবস্থা।

এই শব্দযন্ত্র ব্যবহারের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘যাতে করে হরতালকরীদের কোনো বক্তব্য শোনা না যায় এবং তারা ওইখানে বসতে না পারে, সে জন্যই এ যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। যন্ত্রটি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাছ থেকে নিয়ে এসেছি।’

BD Online Mediasobdo