বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এতে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় সেন্টমার্টিনে প্রায় ৬০০ পর্যটক আটকা পড়েছেন। একই সঙ্গে টেকনাফেও সেন্টমার্টিনের প্রায় সাড়ে ৩০০ বাসিন্দা আটকা পড়েছেন। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এমন অবস্থা আরও দুই দিন থাকতে পারে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নিম্নচাপের প্রভাবে কাল রোববার বৃষ্টি হতে পারে। আগামী সোমবার থেকে বৃষ্টি কমতে পারে। দেশের চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং কক্সবাজারকে ৩ নম্বর সতর্কতা দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। নৌবন্দরগুলোকে ২ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার কেয়ারি সিন্দাবাদ, গ্রিন লাইন ওয়ান, এলসিটি কুতুবদিয়া, কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন জাহাজে করে প্রায় তিন হাজারে মতো পর্যটক সেন্টমার্টিনে যান। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ফিরতি জাহাজে করে দুই হাজার পর্যটক ফিরে আসের। এরপর সমুদ্রে সতর্কসংকেতের বিষয়টি মাইকিং করা হলে তিন শতাধিক পর্যটক ট্রলারে করে টেকনাফে ফিরে আসেন। তাঁদের মধ্যে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার যাওয়া অনেকে ছিলেন।

সেন্টমার্টিনে আটকা পড়া ঢাকা পেট্রোবাংলার সহকারী ব্যবস্থাপক (সাধারণ) জিয়াউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল সকালে পরিবার নিয়ে এখানে আসি। বেড়াতে এসে আটকা পড়লাম। আমার মতো বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অনেক কর্মী আটকা পড়েছেন।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী আবহাওয়াবিদ উজ্জ্বল কান্তি পাল প্রথম আলোকে বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি কক্সবাজার থেকে ৫৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে সাগর উত্তাল। ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। ৩ নম্বর সতর্কসংকেত বহাল থাকায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সেন্টমার্টিনের চেয়ারম্যান নূর আহম্মদ বলেন, দ্বীপে বেড়াতে আসা ছয় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। টেকনাফে সেন্টমার্টিনের সাড়ে ৩০০ সাধারণ মানুষ আটকা পড়েছেন। সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখায় যাত্রীরা পারাপার করতে পারছে না। পর্যটকদের নিরাপত্তায় সমুদ্রস্নানসহ সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে বিরত থাকতে মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা করা হচ্ছে।

সেন্টমার্টিন হোটেল মালিক সমিতির আহ্বায়ক সিদ্দীকুর রহমান বলেন, ‘সাধারণত ডিসেম্বর মাসে পর্যটকের চাপ একটু বেশি থাকে। আগাম বুকিং হলেও আজ জাহাজ আসতে না পারায় আমাদের প্রচুর ক্ষতি হবে। তবে যাঁরা আটকা পড়েছেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে অর্ধেক ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।’

টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, সেন্টমার্টিনের যাবতীয় খাদ্যসামগ্রী টেকনাফ থেকে সরবরাহ করা হয়। তাই আটকা পড়া পর্যটকদের যাতে খাবারের কোনো সংকট না হয়, এ জন্য ট্রলারে করে কিছু খাবার ও সবজি পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু ওই ট্রলারে করে কোনা যাত্রী পরিবহন করার অনুমিত দেওয়া হচ্ছে না। পর্যটকদের নিরাপত্তায় স্থানীয় ইউপি সদস্য, কোস্টগার্ড পুলিশ ও নৌবাহিনীকে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে।

BD Online Media

sent