শ্রীলঙ্কার সঙ্গে মাহমুদউল্লাহর একটা গভীর সংযোগ আছে। ২০০৭ সালের ২৫ জুলাই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেক। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের আগে হারিয়েছিলেন সহ-অধিনায়কত্ব। গত মার্চে এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই কলম্বোয় বাংলাদেশের শততম টেস্টে বাদ পড়েছিলেন। আবার সেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই আগামী মাসে শুরু হচ্ছে তাঁর সহ-অধিনায়কত্বের দ্বিতীয় পর্ব।

বিপিএলের ফাইনালের আগের দিন বাংলাদেশ টেস্ট দলের নতুন অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের প্রতিক্রিয়া শোনা হয়েছে। বাদ ছিলেন তাঁর ডেপুটি মাহমুদউল্লাহ। বিপিএলের পর কদিন ছুটি কাটিয়ে বাংলাদেশ দলের নতুন সহ-অধিনায়ক আবারও ফিরেছেন মাঠে। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ঘণ্টা দু-এক জিম করে এলেন সংবাদমাধ্যমের সামনে। এমনিতে স্বল্পভাষী, যেকোনো বিষয়ে মাহমুদউল্লাহর প্রতিক্রিয়া হয় পরিমিত। সহ-অধিনায়কত্ব ফিরে পাওয়ার প্রতিক্রিয়াও ব্যতিক্রম নয়, ‘ভালো লাগছে। একটা দায়িত্ব পেয়েছি। চেষ্টা করব যেন দায়িত্বটা ভালোভাবে পালন করতে পারি।’

২০১৪ সালের জানুয়ারিতে সহ-অধিনায়কত্ব হারিয়েছিলেন বাজে পারফরম্যান্সের কারণে। যদিও শোনা যায়, তিনি নিজ থেকেই নাকি বোর্ডকে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। পুরোনো বিষয়টি নিয়ে তিনি বলতে চাইলেন না তেমন কিছু, ‘আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম, এটা ঠিক না। বিসিবি যেটা ভালো মনে করেছে, ওই সময় সেটাই করেছে। আবার আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চেষ্টা করব এটা যেন ঠিকভাবে পালন করতে পারি। অধিনায়ককে সহায়তা বা সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে যেভাবে ভূমিকা রাখার দরকার, সেটা ভালোভাবে করা।’

বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স বা ধারাবাহিক সাফল্যের পুরস্কার হিসেবেই যে টেস্টে সহ-অধিনায়কত্ব পেয়েছেন, সেটিও বলা কঠিন। গত তিন-চার বছরে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিয়মিত হলেও টেস্টে জায়গাটা পোক্ত ছিল না মাহমুদউল্লাহর। এ বছর শ্রীলঙ্কা কিংবা অস্ট্রেলিয়া সিরিজের কথাই ধরুন। দুবার বাদ পড়েছেন দল থেকে। টেস্টে যখন আবার সহ-অধিনায়ক হলেন, কতটা বিস্মিত হয়েছেন তিনি? মাহমুদউল্লাহ বিষয়টি এড়িয়েই যেতে চাইলেন, ‘এসব নিয়ে এত চিন্তা করিনি। যে দায়িত্ব দিয়েছে, সেটা ভালোভাবে পালনের চেষ্টা করব। খেলোয়াড় হিসেবে চেষ্টা করব ভালো খেলতে। দলের সিনিয়র ও সহ-অধিনায়ক হিসেবে আমার দায়িত্ব থাকবে দলকে উপকৃত করা। সেটা হতে পারে আইডিয়া কিংবা উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে।’

গত মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাদ পড়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল মাহমুদউল্লাহর। যিনি বাদ দিয়েছিলেন, সেই চন্ডিকা হাথুরুসিংহে এবার প্রতিপক্ষের কোচ হয়ে আসছেন বাংলাদেশে। মাহমুদউল্লাহ অবশ্য এসব নিয়ে ভাবতে চান না। কীভাবে ভালো খেলবেন, শুধু সেটিই কাজ করছে তাঁর ভাবনায়, ‘এসব নিয়ে একেবারেই চিন্তা করছি না। চিন্তা করছি কীভাবে ভালো খেলতে পারি। নিজের শক্তিশালী ও দুর্বল দিকগুলো নিয়ে যদি কাজ করতে পারি, আমি আমার মানসিকতা যদি ঠিক রাখতে পারি, তবে ভালো করার সুযোগটা কাজে লাগাতে পারব। এটাই আমার লক্ষ্য, নিজের শক্তির দিকে মনোযোগ দিচ্ছি আর দুর্বল দিকগুলো নিয়ে কাজ করছি।’

সদ্যসমাপ্ত ভারত সফরে টানা ব্যর্থতা নিয়ে ফিরেছে শ্রীলঙ্কা। প্রতিপক্ষের এই করুণ দশা নিশ্চয়ই কাজে লাগাতে চাইবে বাংলাদেশ। ভারতে ব্যর্থ হলেও শ্রীলঙ্কাকে মাহমুদউল্লাহ মোটেও হালকাভাবে দেখছেন না, ‘শ্রীলঙ্কা ভালো দল। যদিও তারা ভারতের কাছে সিরিজ হেরেছে। তবুও মনে করি, এই সিরিজটার (বাংলাদেশের বিপক্ষে) দিকে তাদের আলাদা নজর থাকবে। খুব ভালো একটা সিরিজ হবে আশা করি। যেহেতু আমাদের দেশের মাঠে খেলা, আমরা আত্মবিশ্বাসী যেন নিজেদের কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে সেরাটা দিতে পারি।’

বছরের শুরুটা ভালো করতে চান মাহমুদউল্লাহ। তাঁর কথা, শুরুটা ভালো হলো বছরের বাকি চ্যালেঞ্জগুলো উতরে যাবে বাংলাদেশ।

BD Online Media

maha