চলতি বছরের মার্চে রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আসন্ন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আর তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন বেশ কয়েকজন নারী প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে আলাদা করে নজর কেড়েছেন দুজন।

পুতিনের বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেওয়া এই দুই নারী প্রার্থী হলেন আইনা গামজাটোভা ও কেসেনিয়া সোবচাক। এর মধ্যে আইনা হলেন রাশিয়ার ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রথম মুসলিম নারী। অন্যদিকে কেসেনিয়া একাধারে অভিনেত্রী, টিভি উপস্থাপক ও মডেল।

আল-জাজিরা ও রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির খবরে বলা হয়েছে, আইনা গামজাটোভা একজন সফল সাংবাদিক এবং রাশিয়ার সবচেয়ে বড় মুসলিম গণমাধ্যম সংস্থার প্রধান। সোমবার তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির কাছে নিজের নিবন্ধনসংক্রান্ত সব নথি জমা দিয়েছেন। রাশিয়ান রিপাবলিক অব দাগেস্তান নামের স্থানীয় একটি গোষ্ঠী তাঁকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন আইনা। তিনি দাগেস্তান অঞ্চলের প্রধান মুফতির স্ত্রী। ৪৬ বছর বয়সী এই নারী বেশ কয়েকটি দাতব্য সংস্থা পরিচালনা করেছেন।

তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণে সমর্থনসূচক প্রায় তিন লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হবে আইনাকে। পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হলে এত বিপুল পরিমাণ স্বাক্ষর সংগ্রহের প্রয়োজন হয় না। সে ক্ষেত্রে যদি কোনো প্রার্থী পার্লামেন্টের সদস্য না হন, তবে তাঁকে এক লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হয়।

আইনা গামজাটোভার পক্ষ থেকে এখনো নির্বাচনী কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে রুশ মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ আইনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেরও নজর কাড়তে সমর্থ হয়েছেন তিনি।

এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন ৩৫ বছর বয়সী কেসেনিক সোবচাক। রাশিয়ার ‘প্যারিস হিলটন’ বলে পরিচিত তিনি। রুশ প্লেবয় সাময়িকীর প্রচ্ছদকন্যা হয়েছিলেন তিনি। একসময় টুকটাক সাংবাদিকতাও করেছেন। টুইটারে কেসেনিয়ার ফলোয়ার সংখ্যা চার লাখের বেশি।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, সেন্ট পিটার্সবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন কেসেনিয়া। তাঁর বাবা আনাতোলি সোবচাক ছিলেন সেন্ট পিটার্সবার্গের মেয়র। ২০১২ সালের পুতিনবিরোধী বিক্ষোভে যোগ দিয়ে রাজনীতির মাঠে পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। আরটির খবরে বলা হয়েছে, কেসেনিয়াও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।

রুশ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অন্যান্য নারী প্রার্থীদের মধ্যে আরও কয়েকজন রয়েছেন। সেই তালিকায় জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে ক্রেন অপারেটরও আছেন!

আগামী ১৮ মার্চ রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে আসন্ন নির্বাচনে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক নেতা আলেক্সেই নাভালনিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কট্টর সমালোচক নাভালনিকে নির্বাচনে রুখতে সব চেষ্টা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

BD Online Media

putin