— বিশ্রাম
সর্দি কাশি বা কফ মানেই হলো ইনফেকশন। আর এর বিরুদ্ধে লড়তে হলে চাই শক্তি। এই কারনেই যে কোন বয়সের মানুষেরই এ সময় প্রচুর বিশ্রাম দরকার। শিশুরা যখন বিশ্রাম নেয় তখন তারা আরোগ্য লাভ করতে থাকে। তাই এসময় শিশুর যথেষ্ট বিস্রামের ব্যাবস্থা করুন।
.
বিশ্রাম মানে আবার এটা নয় যে বাচ্চাকে বিছানায় শুয়ে থাকতে হবে বা ঘুমাতে হবে। বাচ্চার রিলাক্স করার ব্যাবস্থা করুন। তার জন্য এমন কোন খেলার ব্যাবস্থা করুন যেটাতে তার দৌড়ঝাপ করতে হবেনা। বাচ্চাকে হয়ত টিভি থেকে দূরে রাখতে চাইছেন। কিন্তু এ সময় তার প্রিয় কোন চ্যানেল বা কার্টুন বা মুভি দেখতে দিন। বাচ্চাকে কোলে নিয়ে তাকে বই পড়েও শোনাতে পারেন।
.
— বাষ্প
নিঃশ্বাসের সাথে বাষ্প নিলে তা নাসারন্ধ্রের কফ পাতলা করতে সাহায্য করে। যদি বাসায় হিউমিডিফায়ার থাকে তবে বাচ্চার রুম আদ্র রাখার চেষ্টা করুন। আর তা হলে বাচ্চাকে বাথরুমে নিয়ে বাথরুমের দরজা জানালা বন্ধ করুন, গীজার থাকলে গরম পানি ছেড়ে দিন বা তাও যদি না থাকে তবে কয়েকটি বালতিতে গরম পানি ঢেলে দিন যাতে পানির বাষ্প বাথ্বরুমের বাইরে যেতে না পারে। বাষ্প ভর্তি বাথরুমে ১৫ মিনিটের মত বসে থাকুন। গরম পানিতে গোসলও এসময় অনেক আরাম দেয়। তবে এ সময় প্রতিটি মুহূর্তে বাচ্চাকে আগলে রাখুন যাতে সে গরম পানির সংস্পর্শে যেতে না পারে।
.
একটি পাত্রে গরম পানি নিয়ে সেটি দিয়ে শিশুটিকে ভাপ দিন। এভাবে শিশুটিকে কিছুক্ষণ রাখুন।গরম বাষ্প শিশুর বুকে জমে থাকা সর্দি, কফ বের করে দিতে সাহায্য করে। নবজাতক শিশুদের ক্ষেত্রে নেবুলাইজার ব্যবহার করা হয়। ঘরে নেবুলাইজার না থাকলে শিশুকে কুসুম গরম পানিতে গোসল করাতে পারেন। কিংবা একটি কাপড় কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে তা দিয়ে শিশুর শরীর মুছে দিতে পারেন। এইরকম কয়েকবার করুন।
.
— স্যালাইন ড্রপ ও বাল্ব সিরিঞ্জ
বাচ্চার যদি কফের কারনে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় তাহলে এ পদ্ধতিতে তার নাক পরিষ্কার করে তাকে আরাম দিতে পারেন। বাচ্চারা সাধারন ৪ বছরের আগে ঠিকভাবে নাক ঝারতে পারেনা। কিছু কিছু শিশু হয়ত এর আগেই তা শিখে যায়। বাচ্চা যদি নাক ঝারতে পারে তবে তার প্রতি নাকে দু এক ফোঁটা স্যালাইন পানি দিয়ে তার নাকের কফ পাতলা করে দিন। এবং এর পর পরিষ্কার টিস্যু বা কাপড় দিয়ে নাক ঝেরে নিন।
.
বাচ্চা যদি ছোট হয় এবং নাক ঝারতে না পারে তবে বাচ্চার মাথা সামান্য পেছনের দিকে ঝুঁকিয়ে বাচ্চার দু নাকে কয়েক ফোঁটা নরসল বা স্যালাইন পানি দিন। ৩০ সেকেন্ড বাচ্চার মাথা এভাবে রাখুন। এতে নাকের মিউকাস পাতলা হবে। এর পর ন্যাসাল অ্যাসপিরেটরের সাহায্যে বাচ্চার নাকের মিউকাস সাকশন করে বের করে আনতে পারেন। ন্যাসাল অ্যাসপিরেটর আজকাল সব বেবি শপেই কিনতে পাওয়া যায়।
.
বাচ্চা যদি এ পদ্ধতি পছন্দ না করে তবে বাচ্চাকে চিৎ করে শুয়ে দু নাকে কয়েক ফোঁটা করে স্যালাইন ড্রপ দিন। এর পর ৩০ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন। তারপর বাচ্চাকে উপুড় করে পেটের উপর ভর দিয়ে শুইয়ে দিন। এতে স্যালাইন পানির সাথে কফ আপনা আপনি নাক থেকে গড়িয়ে পড়বে। পাতলা কাপড় দিয়ে তা মুছে নিন। বাচ্চা এ সময় হাঁচি বা কাশির মাধ্যমেও কফ বের করে দিতে পারে। কাপড় দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বাচ্চার নাকের সামনের অংশ থেকে পানিগুলো মুছে দিন। নাকে তুলা বা কটন বাড ব্যবহার করা উচিত নয়।
.
বাচ্চাকে যদি সর্দিতে দুধ খাওয়াতে সমস্যা হয় তবে দুধ খাওয়ানোর ১৫ মিনিট আগে এটা করতে পারেন। এতে বাচ্চার জন্য দুধ খাওয়ার সময় নিঃশ্বাস নিতে সুবিধা হবে। তবে দিনে তিন চার বারের বেশী এটা করা উচিত নয়। এতে বাচ্চার নাক আর বেশী শুকিয়ে যেতে পারে।
.
— পর্যাপ্ত তরল
শিশুর বয়স ছয় মাসের কম হলে, তাকে বারবার বুকের দুধ খাওয়ান। আর যদি বয়স হয় ছয় মাসের বেশি, তাহলে অল্প অল্প করে পানি, তরল ও নরম খাবার বারবার খাওয়ানো যেতে পারে।শিশুর বয়স ছয় মাসের বেশি হলে শিশুকে গরম স্যুপ দিতে পারেন। হজম করতে পারে এমন সবজি যেমন আলু, গাজর, পেঁয়াজ, আদা দিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন স্যুপ। এটি শিশুর অভ্যন্তরীণ ইনফেকশন দূর করার সাথে সাথে শিশুর পেট ভরিয়ে দেবে। ২ বছরের বেশী বয়সী শিশুদের তুলসী চা, আদা চা ইত্যাদিও দেয়া যেতে পারে। এরসাথে দুই ফোঁটা বিশুদ্ধ মধু মেশাতে ভুলবেন না। এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল হিসেবে কাজ করবে।
.
— বাচ্চার মাথা সামান্য উঁচু রাখুন
বাচ্চা ঘুমানোর সময় তার মাথার নিচে বালিস বা কিছু দিয়ে সামান্য উঁচু করে দিন। এতে করে তার শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়া অনেকটা সহজ হবে। তবে বাচ্চা যদি বেশী ছোট হয় এবং ঘুমের ভেতর নড়াচড়া করে তবে তার মাথার নিচে বালিশ না দিয়ে সরাসরি ম্যাট্রেসের নিচে বালিশ দিয়ে সামান্য উঁচু করে দেয়া নিরাপদ। এতে সিডস (সাডেন ইনফ্যান্ট ডেথ সিনড্রোমের) ঝুঁকি কমানো যায়।
.
— মধু
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, দুই বছরের বেশি বয়সী শিশুদের প্রতিদিন রাতে দুই চামচ মধু খাওয়ানোর পর রাতের বেলা তাদের কাশি অনেকটাই কমে গেছে। তবে এক বছরের নিচে শিশুদের মধু না দেওয়াই ভালো। কাশি উপশমে এক কাপ হালকা গরম পানিতে বা এক কাপ গরম চায়ের সঙ্গে ১ চামচ মধু মিশিয়ে পান করাটা সবচেয়ে ভালো। মধু বন্ধ শ্বাসনালী খুলে দেয় ও প্রদাহ কমায়। এছাড়া মধুতে বেশ খানিকটা ক্যালোরি মেলে, যা শিশুদের বাড়তি শক্তি যোগায়। ২ বছরের বেশী বয়সী শিশুদের তুলসী চা, আদা চা ইত্যাদিও দেয়া যেতে পারে।

BD Online Mediababy 11