এই তো সেদিনের কথা। ওর জন্ম হল, সেই সাথে যেন জন্ম হলো আমারো। খুব ভয় করেছিল সেদিন। মৃত্যু ভয়। ওযূ করে বসে আছি । যাবতীয় কাজ শেষে নেয়া হলো অপারেশন থিয়েটারে। যেই থিয়েটারে নেই কোন আনন্দ, আছে শুধু ভয়। ডাক্তার ভাই আমার ঘুরে ঘুরে ওটি দেখাচ্ছে যেনো স্বাভাবিক থাকি। ফাঁকে ফাঁকে রেডি করছে ছুরি কাঁচি। মাথার ওপর লাইট। কেমন যেনো ঘুম ঘুম ভাব। এরই মাঝে দুই বার সূচ ফুটলো ।

putu miya ইলেকট্রিক শক খাওয়ার অনুভূতিটা কোমড় থেকে রেডিয়েট করে পায়ে চলে গেল।বেডে শোওয়ার পর নাকে মাস্ক পরলাম যেনো অক্সিজেন নিতে পারি কিন্তু তখনি বিপত্তি হয়ে গেছে। নিঃশ্বাস নিতে পারছিনা। দম আঁটকে যাচ্ছে।  বারবার মাথা ঝাঁকাচ্ছি কিন্তু কেউ বুঝতেই পারছেনা আমার সমস্যা। আল্লাহর রহমতে ডাক্তার মেম অবস্থা বুঝে নিয়ে নেস‍্যাল ডিকনজেসটেন্ট দিলেন। মনে হলো যেন মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখলাম। অতঃপর শুরু হলো অপারেশন। মেম আর আমার ভাইয়া মাঝে মাঝে কথা বলছে। আর আমার পেলভিক এরিয়াটা খুব নড়ছে। মানে অপারেশন চলছে। দেখলাম ভাইয়ার চিন্তাময় মুখটা হঠাৎ আনন্দে চকমক করে উঠলো। আমার ময়না পাখির চিৎকার শুনে এক আজব অনুভূতি হলো। অভিমান, আনন্দ আর বাবাটাকে দেখার মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় চোখের কোনে চলে এলো অশ্রু। আল্লাহকে হাজার শুকরিয়া জানাই পৃথিবীর বুকে শ্রেষ্ঠ নেয়ামত দান করার জন্য। সবাই দোয়া করবেন। দোয়া করি আপনাদের জন্য যারা একটা সন্তান এর জন্যে এত কষ্ট করছেন। মনে রাখবেন সন্তান আল্লাহর দান।

– নিজের অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন ডাঃ শারমিন ইসলাম।

“নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব আল্লাহ তা’আলারই। তিনি যা ইচ্ছা, সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন।
অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাশীল।” – সূরা আশ-শুরা